ভুবনেশ্বর/বহরমপুর | ২ জানুয়ারি, ২০২৬ — ওড়িশার বিভিন্ন প্রান্তে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। গত ২৪ ডিসেম্বর ওড়িশার সম্বলপুরে মুর্শিদাবাদের সুতির বাসিন্দা বছর কুড়ির যুবক জুয়েল শেখকে পিটিয়ে খুনের ঘটনার পর থেকেই ওড়িশায় কর্মরত কয়েক হাজার বাঙালি শ্রমিকের মধ্যে প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আজ অধীর চৌধুরী ঘোষণা করেছেন যে, তিনি শীঘ্রই ওড়িশায় গিয়ে আক্রান্ত শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টিতে ব্যক্তিগতভাবে নজর দেবেন।
“বাঙলাভাষী মানেই বাংলাদেশি নয়”: অধীর
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করে একটি বিশদ চিঠি দিয়েছেন অধীর চৌধুরী। সেই চিঠিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ওড়িশা এবং ভারতের অন্যান্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের ওপর অমানবিক অত্যাচার চলছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের একাংশ ‘বাঙলাভাষী’ এবং ‘বাংলাদেশি’—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারছে না।
“ওদের একমাত্র অপরাধ হল ওরা বাংলায় কথা বলে। এই অজুহাতে ওদের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে, আধার কার্ড দেখতে চাওয়া হচ্ছে এবং তার আগেই লাঠি-রড দিয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে। আমি ওড়িশায় গিয়ে এই শ্রমিকদের মনোবল জোগাব এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব,” — আজ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে একথা বলেন অধীর চৌধুরী।
ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ: ওড়িশা থেকে পালাচ্ছেন শ্রমিকরা
গত ৪৮ ঘণ্টায় ওড়িশার ভুবনেশ্বর, বালেশ্বর এবং ভদ্রক এলাকা থেকে মুর্শিদাবাদ ও মালদার প্রায় ৩২ জন শ্রমিকের ওপর নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ভুবনেশ্বরের চন্দ্রশেখরপুর এলাকা থেকে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, রাতে ঘুমন্ত অবস্থা থেকে তুলে শ্রমিকদের বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। এমনকি ডোমকল ও জলঙ্গি ব্লকের ২৫ জন শ্রমিকের খোঁজ মিলছে না বলেও দাবি পরিবারের।
অধীর চৌধুরীর মতে, এই সাম্প্রদায়িক উস্কানি এবং ভাষাগত বিভেদ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক বিশেষ রাজনৈতিক নীল নকশা। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন যাতে সমস্ত রাজ্য সরকারকে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন করা হয়।
[ওড়িশায় মৃত শ্রমিক জুয়েল শেখের পরিবারের সঙ্গে দেখা করছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী | ফাইল ছবি]
রাজনৈতিক চাপানউতোর
রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসও এই ইস্যুতে সরব হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই ওড়িশা সরকারকে কড়া চিঠি দিয়েছেন এবং রাজ্য পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল সম্বলপুরে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন গোলমাল’ বলে দাবি করলেও, অধীর চৌধুরী এবং তৃণমূল—উভয় পক্ষই একে একটি সুপরিকল্পিত আক্রমণ বলে মনে করছে।
অধীর চৌধুরীর এই ওড়িশা সফরকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। বহরমপুরের এই প্রাক্তন সাংসদ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক দলের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি বাংলার মানুষের অধিকার রক্ষায় লড়াই করবেন।

















Leave a Reply