নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট :
সালটা ছিল ১৯৫১। দেশভাগের ক্ষত তখনও টাটকা। ঘরছাড়া মানুষগুলোর একাংশ আশ্রয় নিয়েছিলেন বালুরঘাটে। মাথা গোঁজার ঠাঁই মিললেও ভবিষ্যতের পথ তৈরি ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই সময়েই বালুরঘাটের খাদিমপুর এলাকায় গড়ে ওঠে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—খাদিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়। শরণার্থী সন্তানদের শিক্ষার আলো দেখাতে যাত্রা শুরু করা সেই স্কুল আজ মহীরুহে পরিণত। এক পা দু’পা করে পেরিয়ে এসে পূর্ণ করল ৭৫ বছর।
প্লাটিনাম জয়ন্তী উপলক্ষে শনিবার সকালে বিদ্যালয় চত্বরে ছিল উৎসবের আমেজ। সকাল শুরু হয় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে। বিদ্যালয়ের পতাকা হাতে, রঙিন ট্যাবলো ও সজ্জিত ব্যানারে সাজানো শোভাযাত্রা নজর কাড়ে শহরবাসীর। প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক থেকে শুরু করে সমাজের বিশিষ্টজনেরা এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন। বহিরাগত রণপা শিল্পীদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা পায় বাড়তি আকর্ষণ।বিদ্যালয়ের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে পাঁচ দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় আগামী কয়েক দিন মাতবে স্কুল প্রাঙ্গণ। প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতি, সাফল্য আর আবেগ মিলেমিশে এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এই জয়ন্তী উৎসব।উৎসব কমিটির আহ্বায়ক তথা বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক মধুসূদন ভট্টাচার্য বলেন, “আজ প্রভাত ফেরির মাধ্যমে আমাদের স্কুলের ৭৫ বছরের সমাপনী অনুষ্ঠান শুরু হল। বর্তমান ও প্রাক্তন বহু ছাত্রছাত্রী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। আগামী চার দিন ধরে নানা অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে।”
শরণার্থী জীবনের সংগ্রাম থেকে শিক্ষার আলো—খাদিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭৫ বছরের পথচলা আজ বালুরঘাটের ইতিহাসেরই এক উজ্জ্বল অধ্যায়।
খাদিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্লাটিনাম জয়ন্তী: স্মৃতি, শিকড় ও সাফল্যের ৭৫ বছরে বালুরঘাটে উৎসবের রোশনাই

















Leave a Reply