Advertisement

নতুন বছরে ইডির বড় পদক্ষেপ: নিয়োগ দুর্নীতিতে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার ৩.৬০ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

কলকাতা | ২ জানুয়ারি, ২০২৬ — নতুন বছরের শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেলেন রাজ্যের কারামন্ত্রী তথা বোলপুরের তৃণমূল বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় শুক্রবার মন্ত্রীর প্রায় ৩ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা মূল্যের সম্পত্তি ‘অ্যাটাচ’ বা বাজেয়াপ্ত করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তদন্তকারী সংস্থার এই পদক্ষেপে বীরভূমের এই দাপুটে নেতার অস্বস্তি কয়েকগুণ বেড়ে গেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কী কী সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হল?

ইডি সূত্রে খবর, শুক্রবার কলকাতার সিবিআই বিশেষ আদালতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়ে এই বাজেয়াপ্তকরণের কথা জানানো হয়েছে। চন্দ্রনাথ সিনহা, তাঁর স্ত্রী এবং দুই ছেলের নামে থাকা মোট ১০টি স্থাবর সম্পত্তি এই তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • বোলপুর ও সংলগ্ন এলাকায় থাকা একাধিক জমি ও বসতবাড়ি
  • বিলাসবহুল ফ্ল্যাট
  • একটি আস্ত বাজার বা বাণিজ্যিক এলাকা

তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, এই সম্পত্তিগুলির ক্রয়মূল্যের নিরিখে ৩.৬০ কোটি টাকার হিসেব ধরা হয়েছে, যদিও বর্তমান বাজারমূল্য এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি হতে পারে।

কেন এই পদক্ষেপ?

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত কুন্তল ঘোষের ডায়েরি থেকে প্রথম চন্দ্রনাথ সিনহার নাম সামনে আসে। এরপর ২০২৪ সালের মার্চ মাসে মন্ত্রীর বোলপুরের ‘চন্দ্রালয়’ বাসভবনে ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই সময় তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল নগদ ৪১ লক্ষ টাকা, যার কোনও বৈধ উৎস মন্ত্রী দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ।

এর পরবর্তী সময়ে ইডি তাঁর বিরুদ্ধে একটি সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করে। গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ চন্দ্রনাথ সিনহা বিশেষ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। আদালত তাঁকে জামিন দিলেও কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছিল— যেমন, তিনি নিজের বিধানসভা এলাকা এবং কলকাতা ছাড়া অন্য কোথাও যেতে পারবেন না।

“তদন্তে উঠে এসেছে যে এই সম্পত্তিগুলি দুর্নীতির টাকায় কেনা হয়েছে। তাই মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (PMLA) অনুযায়ী এগুলি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে,” — ইডি-র এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনা নিয়ে যথারীতি তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটি বিজেপির ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ এবং ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভয় দেখানোর কৌশল। অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব পালটা আক্রমণ শানিয়ে বলেছে, “লুটের টাকা এবার ফেরত দেওয়ার সময় এসেছে। মন্ত্রীরা জেলের ঘানি টানছেন আর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হচ্ছে— এটাই দুর্নীতির পরিণতি।”

পরবর্তী পদক্ষেপ

ইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির ফরমান জারি হওয়ার পর এবার তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের ওপর আরও কড়া নজরদারি চালানো হবে। চন্দ্রনাথ সিনহাকে পুনরায় জেরার জন্য তলব করা হতে পারে বলেও খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *