বারুইপুর | ২ জানুয়ারি, ২০২৬ — ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করতে বছরের দ্বিতীয় দিনেই নিজের ‘কর্মভূমি’ দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে বেছে নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বারুইপুরের ফুলতলা সাগরসঙ্ঘের মাঠে অভিষেকের এই সভা ছিল আক্ষরিক অর্থেই এক বিশাল ‘পলিটিক্যাল কনসার্ট’। তবে সব ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল মাঠের মাঝখানে তৈরি করা বিশাল ‘প্লাস’ চিহ্নের আকারের র্যাম্প এবং সেই র্যাম্পে অভিষেকের সঙ্গে হাঁটা তিন রহস্যময় ‘ভূত’।
মঞ্চ নয়, যেন কনসার্টের আসর
২০২৪-এর ব্রিগেডের ধাঁচে বারুইপুরের সভায় প্রথাগত মঞ্চের আদল ভেঙে এক আধুনিক সজ্জা দেখা যায়। দর্শকদের একদম কাছে পৌঁছে যেতে মূল মঞ্চ থেকে মাঠের মাঝ বরাবর লম্বা চারদিকের র্যাম্প তৈরি করা হয়েছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই র্যাম্পে পা রাখলেন, তখন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে বারুইপুরের জনসমুদ্র। র্যাম্পে হাঁটতে হাঁটতেই তিনি জনসংযোগ সারেন এবং কর্মীদের বার্তা দেন।
র্যাম্পে হাঁটলেন তিন ‘ভূত’!
এদিন সভার সবচেয়ে বড় চমক ছিল র্যাম্পে অভিষেকের সঙ্গে তিন সাধারণ মানুষের উপস্থিতি। তাঁদের ‘ভূত’ বলে সম্বোধন করে অভিষেক নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। এই তিন ব্যক্তি হলেন— মেটিয়াবুরুজের মনিরুল মোল্লা ও মায়া দাস এবং কাকদ্বীপের হরেকৃষ্ণ গিরি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গর্জে উঠে বলেন:
“সবার খুব কৌতূহল ছিল কেন এই র্যাম্প? এই র্যাম্প আসলে তিনজনকে হাঁটাবে বলে তৈরি। এরা হলেন রক্তমাংসের মানুষ, অথচ নির্বাচন কমিশন তাঁদের নথিতে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করে দিয়েছে। আমি বিজেপি আর কমিশনকে প্রশ্ন করতে চাই— মৃত মানুষ কি কখনও র্যাম্পে হাঁটতে পারে? এরা ভূত নয়, এরা বাংলার নাগরিক যাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।”
নির্বাচনী লক্ষ্যমাত্রা: ৩১-এ ৩১
র্যাম্পে দাঁড়িয়েই অভিষেক ২০২৬-এর জন্য বড় লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে দেন। তিনি ঘোষণা করেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি আসনের মধ্যে ৩১টিতেই তৃণমূলকে জিততে হবে এবং প্রতিটি আসনে জয়ের ব্যবধান হতে হবে অন্তত ৫০ হাজার। তাঁর কথায়, “২০২১-এর চেয়ে ২০২৬-এ তৃণমূলের আসন সংখ্যা এবং ভোট শতাংশ—দুটোই বাড়বে। অন্তত একটি হলেও বেশি আসন আমরা পাব।”
কমিশনকে হুঁশিয়ারি
ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের জেরে অভিষেক সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্র করে তৃণমূলের ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। “যাঁরা আপনাদের ম্যাপ থেকে মুছে দিতে চাইছে, ২০২৬-এ ইভিএম-এ বোতাম টিপে তাঁদের বাংলার ম্যাপ থেকে মুছে দিন,” — র্যাম্পে হাঁটতে হাঁটতে এই আবেদনই জানান তিনি।

















Leave a Reply