কলকাতা ২ জানুয়ারি, ২০২৬ — বিনোদন জগতের তারকাদের ট্রোলিং বা সমাজমাধ্যমে হেনস্থার ঘটনা নতুন নয়, কিন্তু ইদানীং সেই আক্রমণের মাত্রা সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গেছে। অশালীন মন্তব্য থেকে শুরু করে প্রাণনাশের হুমকি— বাদ যাচ্ছে না কিছুই। এই ‘বিষাক্ত’ পরিবেশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে নতুন বছরের দ্বিতীয় কর্মদিবসেই লালবাজারের সাইবার অপরাধদমন শাখার দ্বারস্থ হলেন টলিউডের শীর্ষস্থানীয় পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতা-অভিনেত্রীরা।
নবগঠিত স্ক্রিনিং কমিটি এবং ফেডারেশন অফ সিনেমা টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া (FCTWEI)-এর সদস্যরা শুক্রবার নগরপাল মনোজ বর্মার হাতে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র তুলে দেন।লালবাজারে চাঁদের হাট: কেন এই পদক্ষেপ?শুক্রবার দুপুরে লালবাজারের সাইবার ক্রাইম দপ্তরে দেখা যায় টলিপাড়ার একঝাঁক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে।
উপস্থিত ছিলেন ইম্পা (EIMPA) ও স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা, নিসপাল সিং রানে, রানা সরকার, পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায় এবং আরও অনেকে।টলিউড নেতৃত্বের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনকে আক্রমণ করা হচ্ছে।
বিশেষ করে ছবির টিজার মুক্তি বা সিনেমা হলের শোগুলি বণ্টন করার সময় এক শ্রেণির ‘ট্রোল আর্মি’ সক্রিয় হয়ে উঠছে। এমনকি কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে তারকাদের বিকৃত ছবি (Morphed Images) ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও জানানো হয়েছে।রেটিং জালিয়াতি ও প্রাণনাশের হুমকিএদিনের অভিযোগে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ‘মুভি রেটিং ম্যানিপুলেশন’।
অভিযোগ জানানো হয়েছে যে, ছবি মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছবির রেটিং কমিয়ে দেওয়ার জন্য সংঘবদ্ধ আক্রমণ চালাচ্ছে।ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমকে বলেন:“ছবির ভালো-মন্দ নিয়ে সমালোচনা হতেই পারে, সেটা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার।
কিন্তু ছবির কুশীলবদের পরিবারকে টেনে আনা, অশ্লীল গালিগালাজ করা বা তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়াটা অপরাধ। আমরা এই অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ করতেই আজ প্রশাসনের সাহায্য চেয়েছি।”উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছর দুর্গা পুজোর সময় দেব-এর ছবির মুক্তি নিয়ে বিতর্ক চলাকালীন লেখিকা জিনিয়া সেনের ওপর হওয়া আক্রমণ এবং অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে দেওয়া হুমকির প্রসঙ্গটিও এই অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে।
প্রশাসনের আশ্বাসপুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মার সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক চলে টলিউড প্রতিনিধি দলের। পুলিশ সূত্রের খবর, ‘অনন্যা চট্টোপাধ্যায়’ ও ‘ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী’ নামে দুটি সন্দেহভাজন প্রোফাইল সহ আরও বেশ কিছু বিতর্কিত অ্যাকাউন্টের তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন এই বিষয়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। প্রয়োজনে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং আইটি অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হবে।

















Leave a Reply