Advertisement

এবার খড়গপুর সদর কার – হিরণ না দিলীপ

তৃণমূল নেতা দিলীপ ঘোষ নিজের হাতে তৈরি করেছিলেন খড়গপুরের সংগঠন। জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন। কিন্তু দলের ভিতরের কোন্দলের কারণে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয় বর্ধমানে। তিনি পরাজিত হন। কিন্তু শাহর সঙ্গে কথা বলে আত্মবিশ্বাসী দিলীপ। এবার বিধানসভায় কোন সিট তাকে দেওয়া হবে? এই প্রশ্ন স্বাভাবিক কারণেই উঠেছে।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দল বললে খড়গপুর সদর থেকে লড়ার ইচ্ছাপ্রকাশও করেন। আর তা দেখে কিছুটা ‘শঙ্কিত’ হিরণ? আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অন্য কাউকে খড়গপুর সদরের টিকিট দল দিয়ে বর্তমান বিধায়কের সঙ্গে অবিচার হবে বলেই মনে করছেন তিনি। মেদিনীপুরে দিলীপ অধিকারী ফুটিয়েছিলেন পদ্ম।

সেই দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতাকে গত লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে লড়তে হয়। সেখানে ভরাডুবিও হয়। হারের পর তা নিয়ে প্রকাশ্যে আক্ষেপও করতে দেখা গিয়েছে দিলীপকে। নেপথ্যে দলের লোকজনের কলকাঠির কথাও বলতে শোনা গিয়েছে। তারপর থেকে দলের সঙ্গে ক্রমশ দূরত্ব বেড়েছে। না দেখা গিয়েছে কোনও বৈঠকে।  সম্প্রতি ‘শাহী’ সফরের পর ফের চনমনে দিলীপ। আবার রাজনৈতিক ক্রিজে দাপুটে ব্যাটিং করে চলেছেন দুঁদে রাজনীতিক। স্বমহিমায় ফেরার পর দিলীপ ঘোষ এক সংবাদমাধ্যমে একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, “এটা কি প্রয়োজন ছিল আমাকে বর্ধমানে লড়তে পাঠানো? অনেক ডিসিশন নিতে হয়। তখন আমারও মনে হয়েছিল আমি তো কারও বাঁধা নই। আমারও ব্যক্তিগত জীবন আছে। আর ওই রং দেখে, মুখ দেখে আমি রাজনীতি ভিতরেও করি না, বাইরেও করি না। কাউকে আইসোলেট করার জন্য এটা ফালতু অ্যাজেন্ডা বানানো। এটা আমার বিরুদ্ধে ৪ বছর ধরে চলছে।” ছাব্বিশের নির্বাচনে খড়গপুর থেকে লড়াইয়ের ইচ্ছাপ্রকাশও করেন। এদিকে, আবার খড়গপুর সদরের বর্তমান বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তবে কি তাঁকে সরিয়ে এবার টিকিট দেওয়া হবে দিলীপকে? স্বাভাবিকভাবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তারকা বিধায়কের গলাতেও যেন ‘অভিমানী’ সুর। তিনি বলেন, “এখানকার বর্তমান বিধায়ক সে আমি হই বা অন্য কেউ, তাঁকে এখান থেকে সরিয়ে দেওয়া তো একই অবিচার, লজিক্যালি সেটা ইনজাস্টিস।” বলে রাখা ভালো, হিরণ ও দিলীপের সঙ্গে দূরত্ব দীর্ঘদিনের। অতীতে একে অপরকে একসঙ্গে দলীয় কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। তা নিয়ে কাটাছেঁড়াও হয়েছে বিস্তর। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *