গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে বহু বছরের দাবির অবসান ঘটিয়ে সোমবার মুড়িগঙ্গা সেতুর শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এবং ৪.৭৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই চার লেনের সেতু তৈরি হলে গঙ্গাসাগরের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।
সোমবার পৌষ সংক্রান্তির আগে গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সাগরদ্বীপে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে মেলা প্রাঙ্গণের পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন তিনি। এরপর এক সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একাধিক প্রকল্পের সুবিধা বিতরণের পাশাপাশি বহু প্রতীক্ষিত এই সেতুর শিলান্যাস করেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা শুধু মুখে বলি না। কাজে করে দেখাই। হাজারও প্রতিকূলতা রয়েছে এখানকার মানুষের। তাই এই সেতু নির্মাণ জরুরি ছিল।” মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর স্থায়ী সেতুর দাবি স্থানীয় বাসিন্দা থেকে তীর্থযাত্রী, সবারই বহুদিনের। এই সেতু নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বারংবার ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর প্রশ্ন ছিল, উত্তরপ্রদেশের কুম্ভমেলা যদি ‘জাতীয় মেলা’র মর্যাদা ও আর্থিক সাহায্য পায়, তবে কোটি মানুষের সমাগম হওয়া গঙ্গাসাগর মেলা কেন বঞ্চিত থাকবে? দিল্লির তরফ থেকে ইতিবাচক সাড়া না মেলায় ২০২৩ সালে সাগরের মাটিতে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, “চাতক পাখির মতো অপেক্ষা নয়, সেতু বানাবে রাজ্যই।”
সেই প্রতিশ্রুতি মতোই রাজ্য সরকারের নিজস্ব উদ্যোগে শুরু হয় টেন্ডার ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া। যাবতীয় আইনি ও প্রশাসনিক জট কাটিয়ে এদিন শিলান্যাসের মাধ্যমে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।

















Leave a Reply