নিজেদের ইতিহাসের বার বার করে ভুলে যায় বাংলাদেশ। যেমন ভুলেগেছে ১৯৭১ এর ইতিহাস, ভুলেগেছে মুজিবরের আত্মত্যাগের কথা সেভাবেই ভুলে গেছে যে বাংলাদেশকে জোর করে দিয়েছিলেন টেস্ট স্ট্যাটাস দিয়েছিলো ভারত।
একসময় ‘ছোট দল’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতে চাইত না কোনও বড় ক্রিকেট টিম। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া তো কোন ছাড়, পাকিস্তান-এমনকী শ্রীলঙ্কার কাছেও টেস্ট খেলার দেশ হিসেবে পাত্তা পেত না বাংলাদেশ।
২০০০ সালে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জগমোহন ডালমিয়া ছিলেন ICC-র প্রধান। তিনি নিজে দায়িত্ব নিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে ভোট করিয়ে বাংলাদেশকে দিয়েছিলেন টেস্ট স্ট্যাটাস। এমনকি এরপর ভারতই প্রথম টেস্ট খেলেছিল ২০০০ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে।
তারপর BCB-এর উপর থেকে বয়ে গিয়েছে ২৫ বছরের পদ্মার জল। আর এখন ভারতের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদে গলার শিরা ফোলাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে এই ঘটনার জেরে কার ক্ষতি-কার লাভ হচ্ছে তা কি একবারও ভেবে দেখছেন BCB-র সদস্যরা?
ঘটনা হলো IPL থেকে বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়াতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। প্রতিবাদে সরব হয় বাংলাদেশ। BCB-এর সদস্যরা বিষয়টিকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ‘অপমান’ বলে আখ্যায়িত করতে শুরু করেন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে IPL সম্প্রচারও বাংলাদেশে ব্যান করার সিদ্ধান্ত নেয় BCB। একইসঙ্গে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না আসতে চেয়ে ICC-কে চিঠিও দিয়েছে বাংলাদেশ। এই সিদ্ধান্তে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বাংলাদেশকেই। অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এহেন সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হতে পারে।
কারণ বাংলাদেশ ICC-কে ভারতে আসতে না চেয়ে চিঠি দিলেও, উল্লেখযোগ্য বিষয় হল – ICC-র চেয়ারম্যান ভারতের জয় শাহ। তিনি একই সঙ্গে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছেলেও। ফলে এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কতটা লাভ পাবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এমনকী বাংলাদেশকে বাদ দিয়েও আয়োজন হতে পারে বিশ্বকাপের। সেক্ষেত্রে আখেরে ক্ষতি হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটেরই।

















Leave a Reply