Advertisement

পোষ্যর মানের হিংসা দূর করতে তাদের নিয়মিত ‘ভগবত’ শোনান বৃদ্ধ আশ্চর্য মানুষের বিশ্বাস। এমন অনেক বিশ্বাস মানুষের মনে থাকে যা সত্যি কল্পনা করা যায় না।

আশ্চর্য মানুষের বিশ্বাস। এমন অনেক বিশ্বাস মানুষের মনে থাকে যা সত্যি কল্পনা করা যায় না। এই ধরুন না বর্ধমানের সুব্রত মন্ডলের কথা। রোজ পেটপুরে খাবার, নিয়মিত স্নান, অসুখবিসুখ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা। আদরের পোষ্যদের যত্নে কোনও খামতি রাখেন না তিনি। প্রায় রোজই মেনুতে থাকে ভাত-মুরগির মাংস।

তবুও মাঝেমধ্যে পড়শিদের পোষ্য ছাগলের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে সারমেয়গুলি। এ নিয়ে পড়শিদের কাছে তাঁকে কথাও শুনতে হয়। তাই পোষ্যদের মনে হিংসাভাব দূর করে অহিংস স্বভাব রপ্ত করাতে রোজ নিয়ম করে ভগবত পাঠ শোনান পোষ্যদের মালিক। এমনই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার বাজারের বাসিন্দা পশুপ্রেমী সুব্রত মণ্ডল।

ভাতার বাজারে গান্ধী কালচারাল ভবনের পাশেই ষাটোর্ধ্ব সুব্রতবাবুর বাড়ি। তিনি ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেডের জুনিয়র টেলিকম অফিসার ছিলেন। বছর চারেক আগেই অবসর নিয়েছেন। দুই মেয়ে উচ্চশিক্ষার পর কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন।

বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে থাকলেও স্থানীয়দের কথায়, সুব্রতবাবুর আসল জগৎ গড়ে উঠেছে তাঁর সারমেয়দের ঘিরেই। বাড়িতে আট-দশটি সারমেয় রয়েছে। কোনওটিই বাঁধা থাকে না। ছাড়াই থাকে। তবে পাড়ার বাইরে সারমেয় দলটি কোথাও যায় না।

দেখা যায় এই শীতের সময় বাড়ির পাশেই বলরামতলার সামনে কম্বল পেতে রাখা হয়েছে। সেই বিছানায় শুয়ে রোদ পোহাতে দেখা যায় সারমেয়গুলিকে। পাশেই একটি চেয়ারে বসে সুব্রতবাবু কখনও গীতা, কখনও ভাগবত পাঠ করেন।

সুব্রতবাবুর দাবি, ‘‘আগে দেখতাম গরু, ছাগল দেখলে এরা চিৎকার করে তাড়া করত। কিন্তু এখন স্বভাবের পরিবর্তন হচ্ছে। যতক্ষণ আমি ঈশ্বরের কথা পাঠ করে শোনাই ততক্ষণ এই সারমেয়গুলো স্থির ও শান্ত হয়ে শোনে। জানি না এটা ঈশ্বরেরই মহিমা কিনা।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *