Advertisement

মকর সংক্রান্তি মানেই নবান্ন, পিঠে-পুলি আর বাঙালির শেকড়ে ফেরার ডাক

ধৰ্মীয় উৎসব বাংলার মকর সংক্রান্তি, নবান্ন আর পিঠে পুলি উৎসব যেন এক সূত্রে বাঁধা আহা বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে নতুন ধানের মিষ্টি গন্ধ, গ্রাম বাংলার মানুষেরা একে অপরের ঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছে নতুন পোশাক পরে আর সকালে হাড় হিম করা ঠান্ডা জলে ‘মকর স্নান’! সব মিলিয়েই শুরু হয়ে গেলো মকর সংক্রান্তি।

নতুন ধান ওঠার আনন্দে এই উৎসবের সূচনা। গ্রামবাংলার উঠোনে যখন নতুন ধানের ম ম গন্ধ ছড়ায়, তখনই ঢেঁকিতে চাল কোটার শব্দ জানান দেয়— পিঠে তৈরির সময় সমাগত।

মা-ঠাকুমাদের হাতের ছোঁয়ায় সেই চালের গুঁড়ো যখন গরম দুধে সেদ্ধ হয়ে ‘দুধপুলি’র রূপ নেয়, তখন আধুনিক ডেসার্ট বা কেক-পেস্ট্রিও হার মেনে যায়।পাটিসাপটা: ক্ষীর বা নারকেলের পুর দিয়ে মোড়া পাতলা এই পিঠেটি বাঙালির সবথেকে প্রিয়।দুধপুলি: চালের গুঁড়োর খোলের ভেতরে নারকেলের পুর দিয়ে দুধে ফোটানো এই পিঠে যেন অমৃত।

* চুষি পিঠে: হাতের নিপুণ কারুকার্যে চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি ছোট ছোট সেমাইয়ের মতো এই পিঠে তৈরি করা অত্যন্ত ধৈর্যের কাজ। * গোকুল পিঠে: রসে ভেজানো ভাজা এই পিঠে মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে স্বর্গীয়। নতুন প্রজন্মের কাছে হয়তো অধরা এইসব সুস্বাদু জিনিস। তবুও বাঙালি মেতে ওঠে এই উৎসবে। আশার কথা হল, আধুনিক প্রজন্মও এই ঐতিহ্যের প্রতি পিছুটান অনুভব করছে।

শহরের বড় বড় রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে পাড়ার মেলা— সর্বত্রই এখন হরেক রকম পিঠের সম্ভার। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে অনেকে বাড়িতে পিঠে বানানোর ভিডিও দেখে নতুন করে এই শিল্পকে আয়ত্ত করার চেষ্টা করছেন।খাবার দাবারের দুনিয়ায় গ্লোবালাইজেশন আসলেও, বাঙালির পাতে আজও ‘পিঠে’র আবেদন অমলিন।

এটি কেবল চাল-গুড়ের মিশ্রণ নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের ছোটবেলা এবং বাঙালির এক অনন্য পরিচয়। পৌষের এই হিমেল হাওয়ায় এক বাটি গরম দুধপুলি আর নলেন গুড়ের পাটিসাপটা— ব্যস, বাঙালির শীতকাল সার্থক!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *