সিঙ্গুরে আবার স্বপ্ন নিয়ে ফিরে এসেছে দীপালিরা সে ছিল এক রুপকথার দিন। আনন্দ উৎসাহের দিন। সিঙ্গুরে টাটাদের হাত ধরেই তারা জীবনের আলো দেখবে – এটাই ছিল প্রতিশ্রুতি। কিন্তু এক নিমেষে সব শেষ হয়ে যায়। ২০ বছর পরে আবার তারা আশার আলো দেখছে।
স্বপ্ন ছিল ক্যান্টিনের মাধ্য়মে নিজের সংসার চালাবেন। হয়ে উঠবেন আর্থিক ভাবে সক্ষম। টাটার হাত ধরে সেই ভাবনার বাস্তবায়নও করে ফেলেছিলেন দিপালী মণ্ডল। কিন্তু আজ সবটাই যেন ‘ভোরের স্বপ্নের’ মতো। না রইল টাটা, না রইল ক্যান্টিন। কিন্তু স্বপ্ন দেখা এখনও ছাড়েননি দিপালী। বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলের মধ্যে দিয়ে ভোরের স্বপ্নকেই আবার বাস্তবের রূপ দিতে চান। টাটাদের ছেড়ে যাওয়া সেই সিঙ্গুরের মাঠে রবিবার সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০০৮ সালে বাংলায় রতন টাটার ‘স্বপ্নের ন্যানোর’ অপমৃত্যুর পর গুজরাট তাঁকে দিয়েছিল নতুন করে বাঁচার আশ্বাস। বাংলায় না-হওয়া ন্য়ানো কারখানা তৈরি হয়েছিল গুজরাটে।
কারিগর নরেন্দ্র মোদী। তখন তিনি ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা যখন প্রধানমন্ত্রী মোদীর আগমনের প্রহর গুনছেন, সেই সময় অপেক্ষায় দিপালীও। সিঙ্গুরের সিংহের ভেড়ি অঞ্চল থেকে মোদীর সভা দেখতে এসেছেন দিপালী। এদিন তিনি বলেন, ‘২০০৬ সালে টাটা যখন প্রথম এল, সেই সময় ওরাই (টাটা গোষ্ঠী) আমাদের বেশ কয়েকজনকে হোটেল ম্যানেজমেন্টের প্রশিক্ষণ নিতে পাঠায়। এক মাস মতো তারাতলায় হোটেল ম্যাজেনমেন্ট সংস্থা প্রশিক্ষণ নিয়ে এখানে এসে ক্যান্টিন খুলেছিলাম। প্রতিদিন টাটা, শাপুরজি পালোনজি গোষ্ঠী মিলিয়ে ২ হাজারের অধিক কর্মী আমাদের ওই ক্যান্টিনে খাওয়াদাওয়া করত।’এরপরের পর্ব বাংলার প্রায় প্রতিটি মানুষ জানেন।
জমি আন্দোলন, বিক্ষোভ, তারপর টাটা গোষ্ঠীর চলে যাওয়া। এই সবের প্রভাব পড়েছিল দিপালীর উপরেও। ২০০৮ সালে টাটা চলে গেলে বন্ধ হয়ে যায় দিপালীর সাধের ক্যান্টিন। এদিন বদলের আহ্বান দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই টাটা ফিরে আসুক। বিজেপির মাধ্যমে বাংলায় বদল আসুক।’

















Leave a Reply