প্রজাতন্ত্র দিবসের ঠিক আগের দিন ঘোষণা করা হলো e বছরের ‘পদ্ম’ পুরস্কারের নামের তালিকা। সেই তালিকায় বীরভূমের শিউরির হস্তশিল্পী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়ের নাম দেখে আমরা উদ্বেলিত। এবছর পদ্মশ্রী সম্মান প্রাপক হিসেবে তাঁরও নাম ঘোষিত হয়েছে।
আর এই খবর তাঁর কাছে পৌঁছনোর পর থেকে মুখে ‘তৃপ্তি’-র হাসি। এই পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য নিজের মাকে কৃতিত্ব দিলেন তিনি। কারণ, মায়ের হাত ধরেই নকশি কাঁথা শিখেছেন। শুধু নিজে নয়, বীরভূমের ২০ হাজারের বেশি মহিলাকে স্বনির্ভর করতে হাতে কলমে কাঁথা স্টিচের কাজ শিখিয়েছেন।
এবার তাঁর স্বীকৃতি পেলেন বীরভূমের সিউড়ির হস্তশিল্পী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়। এই ঘোষণার পরেই তৃপ্তি বলেন , “মায়ের কাছ থেকে প্রথমে এটা শিখেছি। ফলে এই পুরস্কারের কৃতিত্ব আমার মায়ের। বীরভূমের প্রায় সব গ্রামে গিয়ে মহিলাদের শিখিয়েছি। প্রায় ২০ হাজারের বেশি মহিলাকে শিখিয়েছি। তাঁরা স্বনির্ভর হয়েছেন।
ফলে তাঁরাও এই কাজ শিখতে আগ্রহী ছিলেন।” হেসে আরও বললেন, “এই সম্মান পেয়ে খুব ভাল লাগছে।” তৃপ্তি মুখোপাধ্যায় নকশি কাঁথায় ফুটিয়ে তোলেন গ্রামের জীবন। গ্রামের মেয়েরা কী স্বপ্ন দেখছে, সেইসব কাজও ফুটিয়ে তোলেন। এর আগেও একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
২০১২ সালে জাতীয় পুরস্কার পান তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের হাত থেকে। ২০১৭ সালে বঙ্গশ্রী সম্মানে ভূষিত হন। আবার ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রক থেকে হস্তশিল্পে ‘শিল্পগুরু’ সম্মান পান তিনি। তাঁর সাফল্যের মুকুটে এবার যোগ হল পদ্মশ্রী সম্মান। এভাবেই প্রান্তিক মানুষদের বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত করলে তা থেকে তারা অনুপ্রাণিত হয়ে আরও নতুন কাজ ঝাঁপিয়ে পড়বেন।

















Leave a Reply