Advertisement

আনন্দপুর কাণ্ডে বিজেপির নীরবতা নাগরিক মহলকে অবাক করেছে

বাংলার রাজনীতিতে একটা খবর – মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি। আর এই বিষয়ে বিষয়ে তৃণমূল ও বিজেপি – দুপক্ষ সমান। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে দেখা গেলো আনন্দপুরের ওই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে বিজেপির বিশেষ হেলদোল নেই। আনন্দপুর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আটজনের দেহ পাওয়া গিয়েছে। নিখোঁজ একাধিক।

রবিবার গভীর রাতে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে আনন্দপুরের নাজিরাবাদে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে মোমো তৈরির কারখানা ও গুদাম। এই ঘটনার পর ঘটনাস্থলে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দলেই।

আনন্দপুরের ঘটনাস্থলে মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্য বিজেপির কোনও শীর্ষনেতা যাননি। অথচ, দুর্গাপুরে আসা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনকে তখন ফুল নিয়ে অভ্যর্থনা জানাতে দেখা গিয়েছে দলের রাজ্যের শীর্ষনেতাদের। ঘটনাস্থলে এবং মৃত-নিখোঁজদের পরিবারের পাশে বিজেপির কাউকে সেভাবে দেখা যায়নি। মঙ্গল ও বুধবার দু’দিনের রাজ্য সফরে বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন। মঙ্গলবার দুর্গাপুরে দলের তরফে আয়োজিত কমল মেলার উদ্বোধনের পাশাপাশি রাতে দলীয় বৈঠকও করেছেন নীতিন।

এদিন বিকেলে নীতিনকে অণ্ডাল বিমানবন্দরে পুষ্পস্তবক দিয়ে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীরা। গেরুয়া শিবিরের মধ্যে প্রশ্ন, আনন্দপুরের ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিলেও কেন ঘটনাস্থলে এলেন না রাজ্য বিজেপির শীর্ষনেতারা? শুধুমাত্র ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা ও স্থানীয় কিছু বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা মঙ্গলবার বেলায় গিয়েছিলেন ঘটনাস্থলে। যেটা নামকাওয়াস্তে বলেই মনে করছে পদ্মশিবিরের একাংশ। দলের একাংশের কথায়, এই ধরনের বড় ইস্যু ধরতেই পারল না বিজেপি। আবার আনন্দপুরের ঘটনায় মৃত-নিখোঁজদের প্রায় সকলেই পূর্বমেদিনীপুরের বাসিন্দা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুর। তবুও ওই আগুনকে বিজেপি কোনো ইস্যু করতে পারলো না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *