পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সিঙ্গুরের ময়দানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন ঘাটালের সাংসদ দেব। প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণ ছিল চড়া সুরে বাঁধা। প্রথমেই তিনি বলেন,’সিঙ্গুর আমার ফেভারিট জায়গা।
দিনের পর দিন এখানে পড়ে থেকেছি। এই মাটি আঁকড়ে ছিলাম। ২৬ দিন অনশন করেছি।’ এখানে সমস্ত জেলা মিলিয়ে মোট ১৬৯৪টি পরিষেবা উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে। যার জন্য মোট খরচ হয়েছে ৩৩ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা।
বাংলার বাড়ি আগেও ১ কোটি করেছি। কিছুদিন আগেও ১২ লক্ষ পরিবারকে দিয়েছি, আজ ২০ লক্ষ মানুষের কাছে ব্যাঙ্কে টাকা পৌঁছে যাবে। মানে ২ মাসে সংখ্যাটা ৩২ লক্ষ! কেন্দ্র এক পয়সাও দেয় না। বাকি যা থাকবে, আগামী দিনে দফায় দফায় হবে। দুর্যোগে যাঁদের বাড়ি ভেঙেছে, তাঁদের করে দিয়েছি। বাংলার বাড়ি প্রকল্পে দেওয়া হল ২৪ হাজার ১৮০ কোটি টাকা।
এর পরেই তিনি ঘাটালের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, দেব আমাকে বারবার বলত। ঘাটালে যখনই বন্যা হয়েছে ছুটে গিয়েছি। ডিভিসি থেকে এসে বাংলা ভাসাত। ১০ বছর কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি লিখেছি। উত্তর দেয়নি। তাই আমরা ঠিক করলাম, কেন্দ্র না দিলেও, আমরা টাকা দিলাম।
ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা দিয়ে আমরা প্রকল্প শুরু করে দিয়েছে। ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ৩০০ কোটি টাকার কাজ হয়ে গিয়েছে। আমি ডবল ইঞ্জিন সরকার নই, আমাদের মানুষের সরকার। আমরা যতদিন থাকব, কন্যাশ্রী-সব প্রকল্প থাকবে। এখানে ৮ একর জমির ওপর ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে, সিঙ্গুর অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। ২৮টি প্লটের মধ্যে বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে ২৫টি। অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
কৃষিজমি দখল করে নয়, কৃষি-শিল্প পাশাপাশি চলবে। ৭৭ একর জমিতে প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক সিঙ্গুরে হচ্ছে। অ্যামাজন, ফ্লিপকার্টের বড় ওয়্যার হাউজ হবে। যেখানে হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।’ বুধবার সিঙ্গুরে মমতার ভাষণ শোনাতে জন্য প্রচুর মানুষের ভির হয়েছিল।

















Leave a Reply