Advertisement

‘চিকেনস নেক’ সুরক্ষায় ভারতের মাস্টার প্ল্যান

‘চিকেনস নেক’কে রক্ষার জন্য মাস্টার প্ল্যান ভারতের

এই মুহূর্তে চিন, বাংলাদেশের বিশেষ নজর বাংলার চিকেনস নেক এর উপর। তার উপর পাকিস্তান তো আছেই। এবার ভারত সরকার তার রেল লাইন দিয়ে মাকড়সার জলের মতো ঘিরে ফেলেছে সেই চিকেনস নেককে। ভারত-ভুটান পশ্চিমবঙ্গ ও অসম দুই দিক থেকে রেলপথে জুড়ছে। একেবারে ‘মাকড়সার জালে’র মতো রেলপথে মুড়ে ফেলা হচ্ছে উত্তর-পূর্বাঞ্চল। নেপালের সঙ্গে রেল যোগাযোগ আগেই চালু হয়েছে। এবার ভুটান। জুড়ছে সিকিমও। ‘চিকেনস নেক’ অর্থাৎ শিলিগুড়ি করিডরের সুরক্ষায় ইতিমধ্যে জোর দিয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রক। একাধিক রণকৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারত-ভুটান পশ্চিমবঙ্গ ও অসম দুই দিক থেকে রেলপথে জুড়ছে। একেবারে ‘মাকড়সার জালে’র মতো রেলপথে মুড়ে ফেলা হচ্ছে উত্তর-পূর্বাঞ্চল। নেপালের সঙ্গে রেল যোগাযোগ আগেই চালু হয়েছে। এবার ভুটান। জুড়ছে সিকিমও। এখানেই শেষ নয়। মিজোরাম ইতিমধ্যে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে। মণিপুরে প্রকল্পটি কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ফের শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে এই চিকেনস নেকে’র সুরক্ষায় বড়সড় পদক্ষেপ রেলের। এবার বাজেটের পর রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ২০২৬-২০২৭ বাজেটে যোগাযোগ এবং নিরাপত্তা জোরদার করতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১১ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

রেলপথকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগানো হলে অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। সহজ উপায়ে পাথর, সিমেন্ট, খাদ্য এবং কাঠের পণ্য গুয়াহাটি, শিলিগুড়ি এবং কলকাতা এবং তার বাইরের বাজারে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, অসমের কোকরাঝাড় থেকে ভুটানের গেলেফু স্টেশন পর্যন্ত ৬৯ কিলোমিটার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। তিন বছরের মধ্যে ওই লাইনে ট্রেন চলবে। পশ্চিমবঙ্গে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বানারহাট-সামৎসে রেল পথটি জমি অধিগ্রহণের সমস্যার জন্য দেরি হচ্ছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাজেটে যোগাযোগ এবং নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১১ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বানারহাট-সামৎসে রেল সংযোগটি জমি অধিগ্রহণের সমস্যার কারণে বিলম্ব হচ্ছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ডুয়ার্সের বানারহাট থেকে ট্রেন ছুটবে ভুটানের সামৎসে স্টেশনে। দূরত্ব ২০ কিলোমিটার। অন্যদিকে অসমের কোকরাঝাড় থেকে ট্রেন ছুটবে ভুটানের গেলেফু স্টেশনে। দূরত্ব ৬৯ কিলোমিটার। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে একদিকে ভারত ও ভুটানের মধ্যে যেমন বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে। তেমনই অন্যদিকে শিলিগুড়ি করিডর অর্থাৎ চিকেনস নেকের নিরাপত্তা মজবুত হবে। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে ভুটানের ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব হিসেবে পরিচিত গ্যালিফুর সঙ্গে রেলপথে ভারত জুড়বে। এটা হলে দুই দেশের বাণিজ্যে জোয়ার আসবে।

ভুটান প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, স্থানীয় লজিস্টিক কোম্পানিগুলির গেলফুতে শোরুম খোলার সময় এসেছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব জানান, ভুটানের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করার জন্য দুটি রেল প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভুটান সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছিলেন যে দুটি বড় রেল প্রকল্প শীঘ্রই ভুটানকে ভারতের বিস্তৃত রেল নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সংযোগ, কোকরাঝাড়-গেলেফু এবং বানারহাট-সামৎসে, ভুটানের প্রথম রেল যোগাযোগের সূচনা করবে, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও ভ্রমণকে সহজ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *