Advertisement

শুভেন্দুর গড়ে সমবায় নির্বাচনে ঝড় তুললো সবুজ আবির

এইরকম ছোট ভোটগুলো যদি ২০২৬ এর বড়ো ভোটের এসিড টেস্ট ধরা হয়, তাহলে কিন্তু এই ফল বিজেপির পক্ষে খারাপ ইঙ্গিত। সকাল থেকেই ছিল ব্যাপক উত্তেজনা। এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজী ছিল না তৃণমূল ও বিজেপি। কিন্তু শেষ হাসি হাসলো তৃণমূল। রবিবার বেলার দিকে ফল ঘোষণা হয়। আর তারপরই দুপক্ষের স্লোগান চড়তে থাকে।

একদিকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, অন্যদিকে, ‘জয় শ্রী রাম’! স্লোগান পাল্টা স্লোগানে তপ্ত হতে থাকে পরিস্থিতি। দুপক্ষের কর্মী সমর্থকরা একে অপরের দিকে তেড়ে যান। আবারও সংঘর্ষের বাঁধে। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগে থেকেই মোতায়েন ছিল পুলিশ। নন্দীগ্রাম ২-এর রানিচক ৪৫ আসন বিশিষ্ট সমবায় সমিতি। মোট ভোটার ১ হাজার ৪০ জন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৮০ জন প্রার্থী। বিজেপি প্রার্থী দিতে পারে ৪০ টি আসনে। বাকি ৫ টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয় তৃণমূল। শনিবার থেকেই এই সমবায় সমিতির নির্বাচন ঘিরে দুপক্ষের মধ্যে টান টান উত্তেজনা ছিল। বচসা-মারপিট, হাতাহাতি সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল তপ্ত। সংঘর্ষে মোট ৯ জন আহত হন। শুভেন্দু গড়ে এই সমবায় সমিতি তৃণমূলের দখলে ছিল। আর এই দখল ধরে রাখাই ছিল তৃণমূলের কাছে চ্যালেঞ্জ। ফলঘোষণার পর শেষ জয়ের হাসি হাসল তৃণমূল। ৪৫টি আসনের মধ্যে ২৭টি পেয়েছে তৃণমূল।

বাকি ১৮টি আসনে জয় হয়েছে বিজেপির। এই প্রথম নয়, ঠিক এক সপ্তাহ আগেই শুভেন্দু গড়ে আমদাবাদ সমবায় সমিতির নির্বাচনে হার হয় বিজেপি। ৭ দিনের ব্যবধানে পরপর দুটো সমবায় সমিতির নির্বাচনে জয়ী তৃণমূল।

এলাকার রাজনীতিকরা বলছেন, এর জন্য তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’-ম্যাজিক কাজ করেছে। ছাব্বিশের নির্বাচেন হটসিট নন্দীগ্রাম।

একুশের নির্বাচনে যেখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হয়েছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে লড়েছিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা! সেই নন্দীগ্রাম এবারও পাখির চোখ। বিধানসভা ভোটের মাস কয়েক আগে এই জয় স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছে। তবে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বেরও মতে, অভিষেকের হাত ধরে শুভেন্দু গড়ে ‘সেবাশ্রয়ে’র প্রবেশ জয়ের রাস্তা মসৃণ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *